ছোট গল্প

কপি-প্যাস্ট

একজন প্রকাশককে খুন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কথাটা শুনেই আপনারা চমকে উঠেছেন তাই না? চমকানোর কথাই তো! আমিও চমকে উঠেছিলাম, যখন দেখলাম আমার লেখা পান্ডুলিপি অন্য লেখকের নামে বই হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে! আমি নিশ্চিত যে আমার যায়গায় আপনি থাকলে, আপনিও এই সিদ্ধান্তই নিতেন।

ঘটনাটা খুলে বলি শুনুন-

এই বছর কথামালা প্রকাশনী ৫ জন নতুন লেখকের উপন্যাস প্রকাশ করবে ঘোষণা দেওয়ার পর যার-পর-নাই আনন্দিত হয়েছিলাম। আমি টুক টাক অনলাইনে লিখি। খুব ইচ্ছে করে একটা বই প্রকাশ করার। কিন্তু চাইলেই কি আর তা পারা যায়? গত দুই বছরে কত প্রকাশকের পেছনে যে ঘুরলাম, কোনো লাভ হলো না! কেউ পান্ডুলিপি পড়ার আগ্রহই দেখালো না। দুই একজন বলেছে যে- চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করলে বই ছাপিয়ে দিবে। আমি সামান্য মাইনে পাই, অত টাকা খরচের সামর্থ্য আমার নাই।

অবশেষে কথামালার মতো ভালো মানের একটা প্রকাশনীর থেকে বই বের করার সুযোগ এসেছে। আমার আনন্দ আর দেখে কে? কিন্তু ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারি নি যে আমার কপালে আরও বড় দুর্গতি লেখা আছে!

এর আগে যত উপন্যাস লিখেছি সব ছিল রোম্যান্টিক ঘরানার। এবার চিন্তা ছিল নতুন ধরণের কিছু করবো। মাস দুয়েকের চেষ্টায় লিখে ফেললাম দারুন একটা জম্পেস সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস। নাম দিলাম- মহাপ্রলয়। অবশ্য পুরোপুরি মৌলিক বলা যাবে না! ৪-৫ বছর আগে ব্লগে প্রলয় ঘোষ নামে এক লোক সাইকো থ্রিলার মার্কা গল্প পোষ্ট দিতো। বীভৎস সেই সব লেখা কেউ পড়তো না! অনেক বছর তার খোঁজ নেই। মরে টরে গেছে হয়তো! তার একটা ধারাবাহিক গল্প কপি প্যাস্ট করে সাথে আরও কিছু মাল মশলা ও রগরগে বর্ননা ঢুকিয়ে দিয়ে লিখে ফেললাম মহাপ্রলয়- কারো সাধ্য নেই এই চুরি ধরার!

পান্ডুলিপি ইমেল করে পাঠিয়ে দিলাম প্রকাশনীতে। এরপর দুই মাস চলে গেলো। আমি প্রতিদিন খোঁজ নেই, কার কার বই সিলেক্টেড হলো জানার জন্য। কোন খবর পাই না। অবশেষে বইমেলার দুই সপ্তাহ আগে প্রকাশনী থেকে বইয়ের ঘোষণা এলো। এবং আমার কপালে জুটলো একরাশ হতাশা। ঘোষিত বইয়ের তালিকায় আমার বইয়ের নাম নেই। নতুন ৫ জন লেখকের মধ্যে চারজনই আমার চেনা, ফালতু ফেসবুক রাইটার। গল্পের “গ”ও জানে না, অথচ তাদের বই প্রকাশ হওয়ার জন্য সিলেক্টেড হয়ে গেছে! আর একজন লেখক ছিলো অচেনা। তার নাম যাযাবর শফিক। বইয়ের নাম- এক খন্ড ভালোবাসা। নাম শুনে মনে হলো ফালতু লুতুপুতু প্রেমের গল্প। আমি ফেসবুক ঘেঁটে যাযাবর শফিকের আইডি বের করে ফেললাম। তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম।

কিছুদিন চলে গেলো। ঐ যাযাবর শফিক আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট করলো না। আমি তাকে এবার একটা মেসেজ পাঠালাম- “ভাইজান, আপনার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হতে যাচ্ছে দেখে ভালো লেগেছে। আপনার জন্য শুভকামনা। আমিও টুক টাক লেখালেখি করি। আপনার সংস্পর্শে থেকে কিছু শিখতে চাই। আমাকে ফেবুতে বন্ধু করে নিলে খুব খুশি হবো”।

কিন্তু ঐ দাম্ভিক লেখক যাযাবর শফিক আমার মেসেজ সিন করে ফেলে রাখলো! শালা হারামজাদা! বই বের হচ্ছে শুনেই জাতে উঠে গেছে। নামটাও কি রেখেছে দেখ! বাপ মা হয়তো নাম দিয়েছিলো শফিক রহমান বা শফিক আহমেদ জাতীয় কিছু। সে পালটে রেখেছে যাযাবর শফিক! ওর নামটা হওয়া উচিত গাঁজাখোর শফিক।

বইমেলার তখন তিন দিন বাকি। কথামালা প্রকাশনীর পক্ষ থেকে আপকামিং বইগুলোর প্রচ্ছদ ও কাহিনী সংক্ষেপ পোষ্ট করা হলো ফেসবুকে। যাযাবর শফিকের বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ পড়ে আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। বইয়ের কাহিনী আমার লেখা মহাপ্রলয় উপন্যাসের সাথে হুবুহু মিলে গেছে। শুধু তাই নয়! উপন্যাসের নায়কের নামও এক! এতটা মিল কি করে সম্ভব? আমার তো মাথা খারাপ হয়ে গেলো। প্রকাশক নিশ্চয়ই ভুল করে আমার লেখা বই যাযাবর শফিকের নামে ছাপিয়ে দিচ্ছে! কিন্তু বইয়ের নামও তো চেঞ্জড! কাহিনী কি আসলে? “মহাপ্রলয়” থেকে “এক খন্ড ভালোবাসা”! একটা সাইকো থ্রিলার বই রোম্যান্টিক হয়ে গেলো গেলো কি করে?

আমি আবার নক দিলাম যাযাবর শফিককে- “ভাই, আপনার নতুন বইয়ের নায়কের নাম আর কাহিনীর সাথে আমার লেখা একটা উপন্যাসের মিল পাচ্ছি। আমি পান্ডুলিপি জমা দিয়েছিলাম কথামালা প্রকাশনীতে। কোথাও একটা ভুল হয়ে থাকতে পারে। আপনার উপন্যাস সম্পর্কে আর একটু বিস্তারিত বলবেন কি?”

বলা বাহুল্য, যাযাবর শফিক আমার নকের কোন রিপ্লাই দিলো না। এখন কি করা যায়? কথামালা প্রকাশনীর প্রকাশক রুবেল ভাইয়ের সাথে সরাসরি কথা বলে দেখতে পারি। কিন্তু এই লোককে ফেসবুকে নক দিলে রিপ্লাই দেয় তিন দিন পর। ততদিনে বইটা প্রকাশ হয়ে যাবে! সমস্যা নেই, তার সাথে কথা বলার অন্য রাস্তা আছে। অবন্তী সাহা নামে আমার একটা ফেইক আইডি আছে। এক নেপালি মেয়ের ছবি চুরি করে প্রফাইল বানিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিলো- আমার নিজের লেখা ফেসবুক স্টাটাসগুলোতে সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করা। এতে বেশ লাভ হয়। একটা মেয়ে কমেন্ট করে ভালো বললে, তাতে আরও তিনটা ছেলে এসে লাইক দেয়। ঠিক করলাম অবন্তী সাহার আইডি থেকে প্রকাশকের সাথে কথা বলে সত্য বের করার চেষ্টা করবো।

নক দিলাম- “হ্যালো রুবেল ভাইয়া, কেমন আছেন?”

মুহুর্তের মধ্যে নকের রিপ্লাই এলো- “এই তো আপু, ভালো আছি। তুমি কেমন?”

“শালা লুইচ্চার জাত!” মনে মনে গালি দিলাম। আমার আসল আইডি থেকে তাকে “কেমন আছেন” জিজ্ঞেস করলে তিন দিন পরে উত্তর দেয়- “হুম”। আর এখন মেয়ে মানুষের নক পেয়ে আনন্দে গদগদ হয়ে গেছে!

“ভাইয়া, একটা বিষয় জানার ছিলো”।

“তাই? কি জানতে চাও বল বল?”

“তোর বাপও কি তোর মতো লুইচ্চা ছিলো?” মনে মনে জিজ্ঞেস করলাম। চ্যাটে জিজ্ঞেস করলাম, “ভাইয়া, ব্যাপারটা হচ্ছে গিয়ে এক খন্ড ভালোবাসা উপন্যাসটা নিয়ে। উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ আমার এক বড় ভাইয়ের লেখা উপন্যাসের সাথে মিলে যাচ্ছে। নায়কের নামও এক। সেই বড় ভাই আপনাদের প্রকাশনীতে পান্ডুলিপিও জমা দিয়েছিলো। এমন কি হতে পারে যে ভুলে উনার লেখা উপন্যাস আপনি আরেক জনের নামে ছা পিয়ে দিচ্ছেন?

“নাহ! হতেই পারে না”।

“প্লিজ একটু ভালো করে চেক করে দেখুন। ঐ ভাইয়া লেখাটা আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন তো, আমি জানি”।

“তোমার ভাইয়ার নাম কি?”

“নাজিম খান”।

রুবেল ভাই মেসেজ সিন করার পর মিনিট দুয়েক কেটে গেলো। তারপর রিপ্লাই এলো, “নাজিম খান নামে কোন লেখকের পান্ডুলিপি আমি পাইনি”।

শালা তো মহা ধাপ্পাবাজ! যাযাবর শফিকের কাছ থেকে কয় টাকা খেয়েছে, কে জানে!

এখন কি করবো? প্রমান সহ ফেসবুকে আমার লিস্টে যত রথি মহারথি আছে তাদের ট্যাগ দিয়ে একটা পোষ্ট করা যেতে পারে। আমার জানামতে এদের অনেকেই কথামালা প্রকাশনীর উপর খ্যাপা। ইস্যু পেলে সব একসাথে লাফিয়ে উঠবে!

কিন্তু বিধিবাম! চরম এক ভুল করে ফেলেছি আমি! বইটা যে আমি লিখেছি আগে তার কোন প্রমান আমার হাতে নেই। প্রকাশনীতে মেইল করে পাঠানোর পর আমার কম্পিউটারে ভাইরাস অ্যাটাক করে। বইটা ছিল ডেক্সটপে। উইন্ডোস সেট আপ দেওয়ার পর পান্ডুলিপি গায়েব। এদিকে আমার ইমেইল এড্রেসে বাবাও ঢোকেন মাঝে মধ্যে, তার বিভিন্ন মেইল আসে। অ্যাডাল্ট সাইটের নোটিফিকেশন আসে বলে তাই নিয়মিত মেইলের ইনবক্স-আউটবক্স সব খালি করে ফেলি। মনে ছিলো না যে মেইল থেকেও বইটার পান্ডুলিপিটা উদ্ধার করা সম্ভব! আমার লেখা অন্যের নামে প্রকাশ হয়ে যাবে! অথচ কিচ্ছু করতে পারবো না আমি! নিজেকে খুব বেশি অসহায় লাগছে আমার। কান্না পাচ্ছে খুব। কি করবো এখন?

বলেন? এরপর যদি আমি প্রকাশককে খুন করার সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে কি আমার দোষ দেওয়া যায়?

বইমেলা শুরু হয়ে গেলো। রাতারাতি “এক খন্ড ভালোবাসা” উপন্যাসটি চারিদিকে “মহাপ্রলয়” ঘটিয়ে দিলো। প্রতিদিন প্রচুর বই বিক্রি হচ্ছে। রকমারিতেও বেস্ট সেলার লিস্টে রয়েছে। বইটা কিনে এনে দেখলাম- প্রত্যেকটা লাইন আমার লেখা থেকে কপি-প্যাস্ট করেছে! বইয়ের গ্রুপগুলোতে হাজারো ভক্ত ছবি পোষ্ট করছে, রিভিউ দিচ্ছে, রেটিং দিচ্ছে ১০ এ ১০। তাদের পোষ্টে গিয়ে যাযাবর শফিক কমেন্ট করছে- “ধন্যবাদ”, “ওয়েলকাম”। মনে হচ্ছে এইবছর বইটা বইমেলার বেস্ট সেলার লিস্টে থাকবে, বাংলা একাডেমি পুরষ্কারও পেয়ে যেতে পারে যাযাবর শফিক! রাগে আমার মাথার তালু জ্বলছিলো এইসব দেখে। নিজেকে আর সামলে রাখা সম্ভব হলো না। প্রচন্ড আক্রোশে সিদ্ধান্ত নিলাম- খুন একটা নয়, দুইটা করবো। প্রকাশক এবং লেখাচোর লেখক – দুইজনকেই নিজ হাতে মারবো। এইভাবে আমার চোখের সামনে আমার লেখা নিজের নামে চালিয়ে কেউ বিশাল নাম করে ফেলবে- তা আমি কিছুতেই বরদাস্ত করবো না।

কিন্তু কীভাবে খুন করবো? একটা প্ল্যান করা লাগবে। কথামালা প্রকাশনীর অফিস এলিফ্যান্ট রোডে। আমি কয়েক দিন লুকিয়ে প্রকাশক রুবেলের গতিবিধি লক্ষ করলাম। প্রতিদিন দুপুরে খাবারের পর রুবেল অফিসে একা থাকে। চেয়ারে হেলান দিয়ে মরার মতো ঘুমায় ঘন্টা দুয়েক। তারপর বিকেলের দিকে মেলায় যায়। এটাই উপযুক্ত সময়! কাক-পক্ষীও টের পাবে না! আর লেখককে মারতে খুব একটা কষ্ট হওয়ার কথা না। মেলাতে গেলেই তাকে দেখা যাবে পাঠকের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে একফাকে চুরি মেরে দিয়ে সটকে পড়বো। কেউ বলতেও পারবেন কাজটা কে করেছে!

এরপর আর কি?

নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে প্রকাশককে খুন করে ফেললাম অনায়াসেই। ব্যাটাচ্ছেলে ভুড়ি উচিয়ে আয়েশি কায়দায় ঘুমুচ্ছিল। সমস্ত শক্তি দিয়ে তার বুকের বাম পাশে ছুরিটা আমূল ঢুকিয়ে দিলাম। চিৎকার করার চেষ্টা করছিলো কিন্তু মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ জাতীয় একটা শব্দ ছাড়া আর কিছু বের হলো না। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলাও কেটে দিলাম এক পোঁচে। কাজটা শেষ করে বেরিয়ে এলাম অফিস থেকে। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিলাম। অন্তত ঘন্টা দুয়েক আগে কেউ জানবেই না কিছু!

পরবর্তি ডেস্টিনেশন- বইমেলা। পরবর্তি টার্গেট- কপি-প্যাস্ট লেখক যাযাবর শফিক!

বইমেলায় কথামালা প্রকাশনীর স্টলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রচুর ভিড় দেখতে পাচ্ছি। বেশ কিছু শাড়িপড়া সুন্দরী অল্পবয়সী মেয়ে দেখছি। সবার হাতেই “এক খন্ড ভালোবাসা” বইটি শোভা পাচ্ছে। রাগে আমার গায়ের সব লোম দাঁড়িয়ে গেলো। এই পাঠিকারা আমার লেখা পড়ে মুগ্ধ হচ্ছে, অথচ বাহাবা কুড়াচ্ছে ঐ কুলাঙ্গার যাযাবর শফিক! আমার চোখ খুঁজছে লেখাচোর ঔপন্যাসিক যাযাবর শফিককে। খুঁজে পাচ্ছি না। পাবোই বা কীভাবে? তাকে আমি আগে কখনও দেখি নাই। ফেসবুকে নিজের ছবি দেয় না হারামযাদা! কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখা দরকার। কয়েক কদম এগিয়ে গেলাম স্টলের দিকে।

হঠাৎ আমার উপর চোখ পড়তেই স্টলের সেলসম্যান এর চোখে মুখে যেন একশো ওয়াটের বাল্ব জ্বলে উঠলো। আমার দিকে আঙ্গুল তুলে বলল- “ঐ তো শফিক ভাই এসে গেছে”।

অল্প বয়সী মেয়েগুলো চিৎকার করে উঠলো আনন্দে। এক দৌড়ে ছুটে এলো আমার দিকে। সবার হাতে বই, বাড়িয়ে ধরে বলতে থাকলো, “অটোগ্রাফ দিন ভাইয়া”, “আপনি তো অনেক ভালো লেখেন”, “একটা অটোগ্রাফ দিন প্লিজ”, “আপনাকে দেখে কি যে ভালো লাগছে”, “আপনি মেলাতে আসেন না কেন” ইত্যাদি ইত্যাদি…। কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না আমি। দেখতে দেখতে আমার চারিদিকে একটা মাঝারি আকৃতির ভিড় জমে গেলো। আমি শুধু মুখ হা করে হতবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি সম্মুখে। তার মানে আমিই যাযাবর শফিক! নিজেই ছদ্মনামে উপন্যাসটা জমা দিয়েছিলাম প্রকাশনীতে? যদি তাই হয়, তাহলে ব্যাপারটা ভুলে গেলাম কি করে? তবে কি আমি ডুয়েল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভুগছি?

হঠাৎ বইমেলার বাইরে রাস্তায় পুলিশের গাড়ির সাইরেন বাজার শব্দ পেলাম। প্রকাশক খুন হওয়ার খবরটা মনে হচ্ছে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে গেছে…

আচমকা বুকের ভেতর তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হলো আমার। মনে হচ্ছে পিঠ দিয়ে কিছু একটা প্রবেশ করে বুকটা এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে! আশে পাশে মেয়েরা চিৎকার করে উঠলো। উচ্চ শব্দে কেঁদে উঠলো কয়েকজন। আমার বুক আর পিঠ দিয়ে ছলকে বেরিয়ে আসছে রক্তের ধারা। আমি অপ্রকৃতস্থের মতো পেছন ঘুরে তাকালাম। সমবয়সী একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, মুখে পৈশাচিক হাসি। অস্ফুট কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম- “কেন?”

“আমি প্রলয় ঘোষ!” বলেই উলটো ঘুরে হাঁটা দিলো সে। ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলো মুহুর্তের মধ্যে।

আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে…

চিন্তা শক্তি লোপ পাচ্ছে…

অন্ধকার হয়ে আসছে চোখের সামনের পৃথিবী…

মন্তব্য করুন

About the author

নাজিম উদ দৌলা

নাজিম উদ দৌলা একজন তরুণ ও উদীয়মান থ্রিলার লেখক। পেশায় ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট হলেও অবসর কাটে লেখালেখি করেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লিখছেন অনেক দিন যাবত। এ পর্যন্ত ৫টি থ্রিলার উপন্যাস লিখেছেন তিনি যা পাঠক মহলে ব্যপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি থ্রিলারধর্মী ছোটগল্প লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। লেখকের ফেসবুক প্রোফাইলঃ https://www.facebook.com/zimbd

পোষ্ট ক্যাটাগরি

ফেসবুকে আমি