বড় গল্প

অভিনয়

সকালের এই সময়টা জামিল সাহেবের কাছে আশ্চর্য রকম ভালো লাগে। এক হাতে ধূমায়িত কফির মগ আর অন্য হাতে ধরা খবরের কাগজ। পৃথিবীর সমস্ত সুখানুভুতি যেন একান্তই তার জন্য।

“বাবা, ৫০০ টাকা দাও তো”।

জামিল সাহেব ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন ছোট মেয়ে মিলি দাড়িয়ে আছে। মুখে হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কোথাও যাচ্ছিস মা?”

“হ্যাঁ বাবা। একটু ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি”।

মানি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিতে দিতে জামিল সাহেব বললেন, “একটা কথা বলব মা?”

“অবশ্যই বাবা, বল”।

“গত কয়েকদিন যাবত বলব বলব করছি। কিন্তু বলা হয়ে উঠছে না”।

মিলি হাসলো, “ভুমিকার দরকার নেই বাবা। যা বলার নিশ্চিন্তে বলে ফেল”।

“তুই একটু আমার পাশে বোস”।

মিলি বসলো।

জামিল সাহেব মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “মা, তোর অনার্স তো কমপ্লিট হলো। এবার কি করবি বলে ঠিক করেছিস?”

“কেন বাবা? মাস্টার্স করব।”

‘না… তা করবি। ঠিক আছে। কিন্তু আমি বলছিলাম কি… তোর বড় বোন জুলি আর তার হাসব্যান্ড তো কানাডায় স্যাটেল্ড । বাকি লেখা পড়াটা ওখানে গিয়ে করলে হতোনা? তোর ক্যারিয়ার এর জন্যেও সেটা ভাল হতো! আমার এত বড় বিজনেস কে দেখবে? তুই বাইরে থেকে একটা ডিগ্রি নিয়ে আয়। তারপর সব কিছু বুঝে নে!”

মিলি অভিমানী সুরে বলল, “আমাকে কানাডা পাঠিয়ে দিয়ে তুমি এখানে একা থাকতে পারবে তো বাবা?”

জামিল সাহেব এক মুহুর্ত চুপ করে থেকে বললেন, “মা মরা মেয়ে তুই আমার। ছোটবেলা থেকে মায়ের আদর বাবার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছি । তোকে ছেড়ে একলা থাকাটা আমার জন্য খুব কষ্টের হবে। কিন্তু তোর ভালোর জন্যই …”

মিলি বাবার বুকে মাথা রাখল, “এমন ভালোর দরকার নেই আমার”।

জামিল সাহেব হাসলেন। “আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে শোন… তোকে নিয়ে অন্য একটা প্ল্যান আছে আমার”।

মিলি মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলো, “কি প্ল্যান?”

“একটা খুব হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে তোর সাথে বিয়ে দিয়ে দিবো। তারপর দুজনকে আমার কাছেই রেখে দেব”।

লজ্জা পেয়ে মাথা নামিয়ে নিল মিলি। জামিল সাহেব হাসলেন আবার। “কিরে? কথা বলছিস না কেন? রাজি আছিস? তাহলে ছেলে দেখতে শুরু করি?”

মিলি কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে রাখলো।

“কিরে মা? তোর কি পছন্দের কেউ আছে?”

মিলি চুপ করে আছে দেখে জামিল সাহেব বুঝলেন যে তার ধারনাই ঠিক। “ছেলেটা কে মা? আমাকে খুলে বল। ভয় পাচ্ছিস কেন?”

একটু ইততস্ত করে বলল মিলি, “বাবা, ওর নাম হাসান। আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট”।

“হুম, জানতাম। আমার মেয়ে তো আর যে সে ছেলে কে পছন্দ করবে না! ছেলেটা কি তোর ক্লাসমেট?”

“না, আমার এক ব্যাচ সিনিয়র। এবার মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে”।

“বাড়ি কোথায়? বাবা কি করেন?”

“ওর বাড়ি পঞ্চগড়ে”। মিলি একটু ইততস্ত করে বলল। “বাবা স্কুলের শিক্ষক”।

জামিল সাহেব হাসতে হাসতে বললেন, “এমন ভাবে কথাটা বলছিস যেন স্কুল শিক্ষক হওয়াটা বিরাট বড় অন্যায়? আরে আমার বাবাও স্কুল মাস্টার ছিলেন। একজন শিক্ষল হাজার হাজার ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেন। এটা একটা মহান পেশা! আমার পিতা আমাকে জীবনের সবচেয়ে দরকারি শিক্ষাগুলো দিয়েছিলেন বলেই তো আজ আমি নিজ চেষ্টায় আজ কোটি পতি হয়েছি। তোর উপর আমার বিশ্বাস আছে মা। তুই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে যোগ্য ছেলেটাকে বেছে নিয়েছিস।”

মিলি আনন্দের আতিশয্যে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। “থ্যাংক ইউ বাবা। আমি জানতাম তুমি অমত করবে না”।

“আরে… হয়েছে থাম থাম। অমত করব কিভাবে? তোর আর আমার পছন্দ কখনও ভিন্ন হয়েছে বল?”

মিলির মুখে লাজুক হাসি।

জামিল সাহেব বললেন, “এখন কাজের কথা শোন। কাল ছেলেটাকে আসতে বল। আমি ওর সাথে কথা বলব”।

***

“কি বলছ এসব?” মিলির কথা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো হাসান। “তুমি আঙ্কেলকে সব বলে দিয়েছ?”

দুজনে টি এস সি তে বসে গল্প করছে। হাসানের দুরাবস্থা দেখে মিটি মিটি হাসছে মিলি। “হ্যাঁ… সব বলে দিয়েছি”।

“তোমাকে না বললাম আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর। একটা ভাল চাকরি বাকরি ধরি, তারপর না হয় বলা যেত!”

“আসলে… বাবা এমন ভাবে ধরল যে না বলে উপায় ছিলনা!”

“এখন কি হবে?”

মিলি ঠোঁট টিপে হেসে বললো, “বাবা তোমাকে কাল আমাদের বাড়িতে আসতে বলেছেন। তোমার সাথে কথা বলবে”।

“এই সেরেছে রে!” হাসানের চোখে মুখে অজানা আশংকা। “নাটক- সিনেমায় দেখেছি বড়লোক বাবারা ভীষণ রাগি হয়। মেয়ের প্রেমিক কে ধরে মাইর দেয়!”

মিলি ভ্রু কুচকালো। “ধুর! আমার বাবা মোটেই ঐ রকম না। ওনার মত মানুষই হয়না। একবার কথা বললেই বুঝবে”।

“ঠিক আছে”। হাসান মাথা চুলকাচ্ছে। “কিন্তু কথা বলার সময় অবশ্যই তুমি আমার পাশে থাকবে!”

“আচ্ছা বাবা থাকব”। হাসল মিলি।

মিলি জানে হাসানের এই ভয় পাওয়াটা আসলে অভিনয়। বাস্তব জীবনে সে দেখেছে হাসানের মত সাহসী ছেলে খুব কমই আছে। যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হাসান কখনও ভয় পায়না। সে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। মল চত্বরে দাড়িয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে যখন সে বক্তৃতা দেয়, গাছের পাতারাও যেন কেঁপে কেঁপে ওঠে। একটি ছেলের মাঝে মেধা আর দুঃসাহসের এক অপূর্ব সমন্বয়! তাইতো প্রথম দিন কথা বলার পর থেকে হাসানকে সে ভালবেসে ফেলেছে গভীরভাবে!

***

‘মিলির কথাই ঠিক’। মনে মনে ভাবল হাসান।

মিলির বাবা জামিল চৌধুরী অত্যন্ত অমায়িক মানুষ। হাসান যখন মিলিদের বাড়িতে এলো, তখন জামিল চৌধুরী ড্রয়িং রমে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন। হাসান বাসায় ঢোকার পর পরই তিনি উঠে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। নিজের পাশে নিয়ে বসালেন। কাজের লোককে ডেকে চা-নাস্তা দিতে বললেন। তারপর আবার আবার পত্রিকায় কি একটা খবরের মাঝে ডুবে গেলেন। পাশে যে হাসান বসে আছে তা মনে হচ্ছে বেমালুম ভুলে গেছেন! মিলি বসেছে তাদের কাছ থেকে একটু দূরে। মাঝে মঝে হাসানের সাথে চোখা চোখি হচ্ছে। হাসান অসহায় দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাচ্ছে আর মিলি ঠোঁট টিপে হাসছে।

অবশেষে খবরটা পড়া শেষ করলেন জামিল চৌধুরী। পত্রিকা নামিয়ে রেখে বললেন, “তারপর বলো ইয়ং ম্যান! কেমন আছ?”

“জি … ভাল আছি”।

“বাড়িতে কে কে আছেন তোমার?”

“বাবা-মা আর ছোট একটা বোন, স্কুলে পড়ছে”।

“সবাই ভাল আছে তো?”

“জি… ভাল আছে”।

“তারপর? লেখাপড়া তো শেষ। এখন করবে ভাবছ?”

“দু একটা চাকরির অফার পেয়েছি। কিন্তু আমি আরও ভাল কিছুর জন্য অপেক্ষা করছি। এ বছর বিসিএস পরীক্ষাটাও দিতে পারি। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে”।

“তা তো হবেই”। হাসানের পিঠ চাপরে দিলেন জামিল সাহেব। “তুমি ব্রিলিয়ান্ট ছেলে। তোমাকে যেকোনো প্রতিষ্ঠান টেনে নিতে চাইবে। আমি জানি সেটা। কিন্তু আমি বলছিলাম কি… আরও ভাল কিছু করা যায়না?”

“ঠিক বুঝলাম না”। হাসান একটু বোকার মত হাসল।

“না… মানে বলছিলাম যে…” জমিল সাহেব এক মুহুর্ত ইততস্থ করে বললেন, “ভাল একটা চাকরি করে হয়ত তুমি স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের জীবনটা চালিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু তোমার কি এরচেয়ে বড় কোন স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করেনা?”

হাসান চুপ করে থাকলো।

“দেখ ইয়ং ম্যান”। বলছেন জামিল চৌধুরী। “তোমার মত আমার বাবাও স্কুল মাস্টার ছিলেন। আমি ঢাকা শহরে এসেছিলাম ১০০০ টাকা পকেটে নিয়ে। আজ আমি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে কারন আমার স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার”।

হাসান বললো, “জীবনে বড় কিছু করার ইচ্ছা আমারও আছে। কিন্তু আপাতত এত কিছু ভাবছিনা”।

“ভাবতে হবে ইয়ং ম্যান। সময় চলে গেলে ভেবে আর লাভ কি হবে? এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়!”

“জি … আমি আসলে বুঝতে পারছিনা আপনি কি বলতে চাচ্ছেন”। হাসান অস্থির ভঙ্গিতে মিলির দিকে তাকালো একবার। মিলিও চুপ চাপ।

“বুঝিয়ে বলছি”। জামিল চৌধুরী মুখে স্নেহের হাসি। “তোমাকে আমার মেয়ে ভালোবাসে। আর আমার মেয়ে যাকে ভালোবাসে, আমিও তাকে ভালোবাসি। তুমি আমার সন্তানের মতই”।

একটু থামলেন জামিল চৌধুরী। আবার শুরু করলেন। “আমার সম্পদ যা আছে সব ই আমার সন্তানদের জন্য। আমার বড় মেয়ে কানাডায় স্যাটেল্ড। গ্রিন কার্ড পেয়েছে। তাই এদেশে যা কিছু আছে আমার, বলতে গেলে সবই আমার ছোট মেয়ে মিলি পাবে”।

হাসানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সে কঠিন গলায় বলল, “আমি বোধহয় বুঝেছি। আপনি কি বলতে চান?”

“তুমি রেগে যাচ্ছ ইয়ং ম্যান!” অমায়িক ভঙ্গিতে হাসলেন জামিল চৌধুরী। “তোমার ধারনা ভুল। তুমি যা ভাবছ আমি টা বলতে চাইছি না। আমি বলছি না যে তুমি সব ছেড়ে ছুড়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করে ঘর জামাই হয়ে আমার বিজনেস দেখা শুনা কর”।

“তাহলে কি বলতে চাইছেন ?”

“আমি বলতে চাইছি যে তুমি নিজে বিজনেস কর। আমি যেমন নিজের চেষ্টায় এতদুর এসেছি তেমনি তুমিও নিজের চেষ্টায় বড় হও। চাকরি বাকরি করে ভাল থাকা যায় কিন্তু বড় কিছু করা যায়না। তুমি অল্পবয়সী ছেলে, তুমি মেধাবি, তোমার সাহস আছে, বুদ্ধি আছে, ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা আছে। তুমি কেন অন্যের প্রতিষ্ঠানে নিজের মেধা অপচয় করবে? নিজে বিজনেস এ নামো! অবশ্যই সফল হবে।”

“জি… সেটা আমি অলরেডি চিন্তা করেছি”। হাসান এক মুহুর্ত চুপ করে থাকল। তারপর বললো, আমার খুব ইচ্ছে করে একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম দেয়ার। দুই একজন বন্ধুর সাথে এই বিষয়ে আলাপ করে রেখেছি। তবে এখনই তা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই কাজে নামতে গেলে অনেক পুঁজি দরকার হবে। তাই আগে একটা চাকরি বাকরি করি… কিছু পুঁজি জমা করি, তারপর…”

“এতক্ষনে তুমি লাইনে এসেছ! ঠিক এই কথাটাই আমি তোমাকে বোঝাতে চাইছিলাম।” হাসলেন জামিল চৌধুরী। যে পুঁজি তুমি ১০ বছর চাকরি করে জমাতে চাইছ, তা আমি তোমাকে এখনই দিতে চাই”। বুক পকেট থেকে একটা চেক বের করলেন জামিল চৌধুরী। “এখানে তোমার নামে ১ কোটি টাকা ইস্যু করে দিয়েছি আমি। টাকাটা তোমাকে একেবারে দিচ্ছি না। ধার হিসেবে দিচ্ছি। বিজনেসে লাভের মুখ দেখলে আস্তে আস্তে আমাকে সব টাকা শোধ করে দিও”।

হাসান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলো মিলির দিকে। মিলি কিছু বলছে না। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে।

জামিল সাহেব চেকটা হাসানের দিকে বাড়িয়ে ধরলেন। “অনেক ওপরে উঠতে হলে নিচ থেকে ধাক্কার প্রয়োজন হয়। আমি শুধু সেই ধাক্কা টা দেয়ার চেষ্টা করছি। আর কিছু নয়”।

হাসানের মধ্যে চেকটা নেওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না! সে একবার মিলির দিকে একবার তার বাবার দিকে তাকাচ্ছে। কি বলবে বুঝতে পারছে না! মিলি কিছু বলছে না কেন?

“নাও হাসান”। জামিল চৌধুরী চেকটা বাড়িয়ে ধরে আছেন। “আমি তো তোমার বাবার মতই। বাবার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়াটা সন্তানের অধিকার”।

কাঁপা কাঁপা হাতে চেকটা ধরলো হাসান।

“সাবাস! আমি এই চাইছিলাম!” জামিল চৌধুরীর হাসিটা আরও চওড়া হলো। “ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিজনেস এখন হটকেক। ভালো সম্ভাবনা আছে। তুমি আজই একটা অফিস নিয়ে নাও। কিছু লোক নিয়োগ করো। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করো। ক্লায়েন্ট পাওয়ার ব্যাপারে আমি তোমাকে সাহায্য করবো। আর… তোমার বিজনেস মোটামুটি রানিং হওয়ার পর আমি নিজে তোমার বাবার সাথে কথা বলব তোমাদের বিয়ের ব্যপারে”।

হাসান হাসলো মিলির দিকে তাকিয়ে। মিলিও নীরবে হাসলো।

***

মিলিদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল হাসান। তার হাতে ধরা ১ কোটি টাকার চেক। মিলির বাবার টাকা নিয়ে বিজনেস শুরু করার কোনো ইচ্ছা নেই হাসানের। কিন্তু মিলির সামনে তার বাবার চেকটা ফিরিয়ে দিতে পারেনি হাসান। তাতে করে জামিল চৌধুরী অপমানিত বোধ করতেন। হতে পারে হাসানের হাতে এই চেক তুলে দেওয়ার বুদ্ধিটা আসলে মিলির। সেও তার বাবার মতো চাইছে হাসান বিজনেস করুক, দ্রুত নিজের পায়ে দাঁড়াক। চেক টা ঐ সময় হাতে না নিলে হয়তো মিলি কষ্ট পেতে পারে, এই ভেবে চেকটা নিয়েছিলো হাসান। কিন্তু সে স্বাধীনচেতা ছেলে। প্রেমিকার বাবার টাকায় বিজনেস করে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন সে দেখে না! চেক টা টুকরো টুকরো করে ছিরে ফেলল হাসান। তারপর ফেলে দিল ড্রেনে। মিলির বাবাকে দেওয়া কথা রাখবে হাসান। বিজনেস শুরু করবে সে! কিন্তু মিলির বাবার সাহায্য নিয়ে নয়…

পরবর্তী একমাস খুব দৌড়াদৌড়ির মধ্যে থাকলো হাসান। গ্রামের কিছু জমি জমা ব্যাংকে বন্ধক রেখে মোটামোটি একটা পুঁজি যোগাড় করে ফেললো। তারপর বন্ধু রাসেলের সাথে পার্টনারশীপে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর একটা বিজনেস দাঁড় করিয়েছে। এরই মধ্যে হাসান কয়েকবার মিলিকে ফোন দিয়েছে কিন্তু মিলির ফোন বন্ধ পেয়েছে। রাসেলদের বাড়ি আছে ঢাকার ফার্মগেটের মনিপুরি পাড়ায়। সেই বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরটা অফিস হিসেবে সাজিয়ে নিলো ওরা। নাম দিলো ড্রিম ইভেন্টস। দুই তিন জন কর্মচারি নিয়োগ দিলো। এভাবে সব কিছু গুছিয়ে এনে একদিন মিলির নম্বরে ফোন দিলো হাসান। কিন্তু মিলির নম্বর বন্ধ! সেদিন সারাদিনই ট্রাই করলো হাসান, কিন্তু মিলির নম্বর বন্ধ পেল। সে পরদিনই মিলিদের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।

***

“মিলি চলে গেছে হাসান”। থমথমে গলায় বললেন জামিল চৌধুরী।

“কোথায় গেছে?” হাসানের গলায় ভয়ার্ত সুর।

“তুমি জানো না কিছুই?”

“না তো! এই কদিন মিলির সাথে আমার তেমন যোগাযোগ হয়নি!”

“স্ট্রেঞ্জ!” জামিল চৌধুরী কণ্ঠ শুনে মনে হলো খুব অবাক হয়েছেন। “আমি তো ভাবলাম তোমার সাথে বুঝি মিলির ব্রেক আপ হয়ে গেছে। মনে খুব কষ্ট পেয়েছে। এই কারনে তাড়াহুড়ো করে দেশ ছেড়ে চলে গেলো!”

“দেশ ছেড়ে চলে গেছে?”

“কানাডায় চলে গেছে। ওর বড় বোনের কাছে। গতকাল ফ্লাইট ছিল”।

“কিন্তু কেন?” বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা আর্ত চিৎকারটাকে খুব কষ্টে চাপা দিল হাসান।

“আমি জানিনা, আমাকে কিছু বলেনি। তুমি যাওয়ার পরদিন দেখলাম সে ভীষণ কাঁদছে। সারাটা দিন অনেক কেঁদেছে। আমার কোনো প্রশ্নের জবাব দেয়নি। সারা দিন কিছু খায়নি। রাতে আমাকে ডেকে বলল, ‘বাবা তুমি বাবস্থা কর। আমি কানাডা চলে যাবো’। আমি অনেক প্রশ্ন করেও সঠিক জবাব পাইনি। শুধু বলেছে, ‘কোনও প্রশ্ন করোনা বাবা। আমি যা ঠিক মনে করেছি তাই করছি।’ আমি ভাবলাম বুঝি তোমার সাথে সম্পর্কটা ভেঙে গেছে বলেই সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে!”

হাসানের মনে হল পুরো পৃথিবীটা তার মাথার ওপর ভেঙে পরেছে। সে অতি কষ্টে বলল, “আমাকে তো সে কিছুই জানায় নি! আমি ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পেতাম!”

“সম্ভবত সেদিনের পর থেকে মোবাইল টাও বন্ধ করে রেখেছিল। কারো সাথেই কোন যোগাযোগ করেনি মেয়েটা!”

হাসানের চোখ ছল ছল করছে। জামিল সাহেবকে চোখের পানি দেখা চায় না সে। চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ালো।

জামিল সাহেব ডাকলেন, “হাসান”!

হাসান দাঁড়ালো। পেছনে ঘুরলো না। শার্টের আস্তিন দিয়ে চোখ মুছলো। জামিল সাহেব এগিয়ে এসে তার দিকে একটা মুখ আটকানো চিঠি বাড়িয়ে ধরলেন। “যাওয়ার দিন মিলি এই চিঠিটা দিয়ে গেছে আমার কাছে। তোমাকে দেওয়ার জন্য”।

চিঠিটা হাতে নিয়ে খাম ছিঁড়ল হাসান। মিলির নিজ হাতে লেখা চিঠি! পড়তে পড়তে হাসানের দু চোখ বেয়ে নিজের অজান্তেই অঝোর ধারায় অশ্রু নামলো।

“চিঠি তে কি লেখা আছে তা আমি জানতে চাই না”। বললেন জামিল চৌধুরী। “তোমাদের মধ্যে কি হয়েছে তাও জানতে চাই না। শুধু এতোটুকু বলতে পারি – তোমরা একে অপরের জন্য পারফেক্ট ছিলে। হয়তো সৃষ্টিকর্তার তোমাদের নিয়ে অন্য রকম প্ল্যান ছিলো, তাই হলো না! মনে কষ্ট নিও না হাসান”।

হাসান আবার চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।

তাকে আবার থামালেন জামিল সাহেব। “বাবা হাসান! আমি খবর নিয়েছি- তুমি এখনও চেকটা ক্যাশ করাওনি। তুমি চেকটা ক্যাশ করাও, বিজনেস শুরু কর। আমি বলছি তুমি ভাল করবে। তোমার মধ্যে সে সম্ভাবনা আমি দেখেছি!”

হাসান কোনও জবাব না দিয়ে চলে গেল।

***

২৫ বছর পর…

কিছুক্ষণ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। এখন দর্শকদের সামনে উপস্থাপক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করছেন। মঞ্চে বসে আছে এদেশের গণ্য মান্য কিছু বাক্তিবর্গ। আর দর্শকসারিতে রয়েছে দেশে বড় বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিধিনিরা।

“আজকের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবী, বুদ্ধিজীবী ও বাংলাদেশের প্রধম সারির ধনী বাক্তিদের মধ্যে একজন- মিস্টার হাসান মাহমুদ”।

দর্শকরা তুমুল করতালি দিলো।

“এখন আমরা মিস্টার হাসান কে অনুরোধ করছি আমাদের উদ্দেশে কিছু বলার জন্য”।

হাসান মাহমুদ উঠে দারালেন। তার চুলে পাক ধরেছে। চোখে চশমা। চেহারায় বয়সের ছাপ পরেছে। কিন্তু কণ্ঠের সেই তেজ এখনও আছে। কথা বলতে বলতে তিনি যেন সেই ছাত্র জীবনে ফিরে গেছেন। বলিষ্ঠ কণ্ঠে তিনি এদেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে সমাজের বিত্তবানদের ভুমিকা নিয়ে একটা ভাষণ দিলেন।

তার সেই ভাষণ দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে শুনলো। কিন্তু কেউ জানেনা এই শক্তিশালী মানুষটি কেন সারা জীবন অবিবাহিত রয়ে গেলেন! কেউ জানেনা এত অর্থ-যশ-খ্যাতি অর্জনের পরও তার হৃদয়ে না পাওয়ার কি দারুন ব্যথা!

***

বৃদ্ধ জামিল চৌধুরী মৃত্যুশয্যায়। হাঁসপাতালের ধবধবে সাদা চাদরের ওপর অসহায় অবস্থায় পরে আছেন।

ডাক্তার আসলেন। “জামিল সাহেব, তাকিয়ে দেখুন । আপনার সাথে দেখা করার জন্য কে এসেছে!”

জামিল চৌধুরী আস্তে আস্তে চোখ খুললেন। বেডের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে তার চোখ মুখে হাসি ফুটে উঠলো, “মিলি!”

“হ্যাঁ বাবা, আমি”। মিলি তার বাবার হাত ধরল।

বাবা-মেইয়েকে একান্তে কথা বলার সুযোগ দিয়ে ডাক্তার কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন।

“মা! এই ২৫ টি বছর তুই কিভাবে আমাকে ছেড়ে দূরে দূরে থাকলি মা?”

মিলি কিছু বলতে পারল না। তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল।

“আজ বাবা মৃত্যুশয্যায়, সেই খবর পেয়ে এসেছিস?”

“চুপ কর বাবা”। মিলি কান্না থামানোর আপ্রান চেষ্টা করছে। “কিচ্ছু হবে না তোমার!”

“তাও ভাল যে এসেছিস!” জোর করে হাসার চেষ্টা করছেন জামিল চৌধুরী। “মৃত্যুর আগে একবার তোকে দেখে যেতে পারছি এটাই বা কম কি?”

মিলি কাঁদছে নীরবে। বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ঠিক যেমন ছোট বেলায় রাগ করলে তার বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত।

“জামাই বাবাজি আর আমার নানুভাই কেমন আছে?”

“ভাল আছে বাবা। ওরা আগামিকাল আসবে”।

জামিল প্রায় ফিস ফিস করে বললেন, “মিলি, একটা জিনিস দেখবি মা?”

“কি দেখাবে বাবা?”

“আমার মাথার কাছে একটা পত্রিকা রাখা আছে।”

মিলি পত্রিকা হাতে নিল। “কি দেখবো বাবা?”

“প্রথম পাতায় একটা খবর ছাপা হয়েছে, দেখ!”

মিলি পড়লো,

বিশিষ্ট সমাজসেবী হাসান মাহমুদ বাংলাদেশ ব্যাবসায়ী পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত

ইনসেটে ভাষণ দেয়া অবস্থায় হাসানের ক্লোজ আপ ছবি।

মিলি হাসলো। “সেই চোখ, সেই ভঙ্গী, সেই বলিষ্ঠ অবয়ব। হাসান বদলায় নি, বাবা ! আগের মতই আছে!”

জামিল চৌধুরী বললেন, “ঠিক বলেছিস। আমি বলেছিলাম না? এই ছেলে একদিন বিশাল কিছু হবে? আমি দেখেই বুঝেছিলাম- একবার ওর মাঝে বড় হওয়ার স্বপ্ন ঢুকিয়ে দিতে পারলে ও আর পিছন ফিরে তাকাবে না!”

তিক্ত ভঙ্গিতে হাসল মিলি।

“আমি কখনও জানতে চাইনি, কেন তুই ওর কাছ থেকে দূরে সরে গেলি। কখনও জানতে চাইবনা। কিন্তু তুই আমার মেয়ে। তুই যে ওকে অনেক ভালবাসতি, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না আমার। ওকে ভুলে যাওয়ার জন্যই তুই দেশ ছাড়লি, বাবা কে ছাড়লি, সংসার করলি…”

“থাক বাবা! প্লিজ আর বলোনা! আমি এসব শুনতে চাইনা”।

জামিল সাহেব মেয়ের ক্তহা শুনলেন না! এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন, “তুই যেদিন ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এলি… আমার কাছে মনে হয়েছিল এই ছেলেটা তোর জন্য পারফেক্ট! এর চেয়ে যোগ্য জীবন সঙ্গী আর কে হতে পারে? ছেলেটা সত্যিই অসাধ্য সাধন করেছে! কি সাহস আর দৃঢ় মনোভাব! কোথা থেকে কোথায় চলে এসেছে!”

“কোন যোগ্যতার কোথা বলছ তুমি বাবা?” রেগে গেলো মিলি। “প্রেমিকার বাবার কাছ থেকে ১ কোটি টাকা ধার নিয়ে বিজনেস করে বড়লোক হয়েছে! এটাকে তুমি অসাধ্য সাধন করা বল? কোটি টাকা শর্তহীন ঋণ পেলে রাস্তার ফকিরের পক্ষেও আমির বনে যাওয়া সম্ভব!”

“তুই কি ঐ ১ কোটি টাকার চেকের কোথা বলছিস? সেই চেক তো হাসান ক্যাশ করে নি!”

মিলির হাত থেকে পত্রিকা টা পরে গেল। “কি বললে বাবা? হাসান চেকটা ক্যাশ করেনি? হাসান তোমার টাকা দিয়ে বিজনেস শুরু করেনি?”

“নাহ! সে জমি জমা বিক্রি করে, ধার কর্য করে বিজনেস স্টার্ট করেছিল। অদম্য সাহস আর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সে…” হঠাৎ থেমে গেলেন জামিল চৌধুরী। ভ্রু কুঁচকে বললেন, “দাঁড়া দাঁড়া… তুই কি… তুই কি এই কারনেই হাসানকে ফেলে চলে গিয়েছিলি?”

বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা কান্নাটাকে আর থামাতে পারলনা। বাবার কথাগুলো তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে! তার কণ্ঠে সব হারানোর বেদনার আর্ত চিৎকার, “এই… এই কথাটা… তুমি আমাকে আগে বল নি কেন বাবা?”

এতদিনে জামিল সাহেবের কাছে পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। তিনি বুঝতে পারলেন যে তার মেয়ে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ভুলটি করেছে!

***

রাত হয়েছে অনেক। কিন্তু ঘুম আসছে না। অনিদ্রা যে কত ভয়ঙ্কর অসুখ, সেটা যার হয়নি তাকে বলে বুঝানো যাবে না। হাসান মাহমুদ মনে প্রানে ঘুমাতে চাইছেন। মনে কোন দুশ্চিন্তা নেই, আশপাশের কোন আওয়াজ ঘুমে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে না। রাত জেগে সময় কাটানোর কোন কাজ নেই। কিন্তু তবুও ঘুম আসছে না। সারা পৃথিবী নিশ্চুপ ঘুমিয়ে আছে, শুধু হাসানের চোখে ঘুম নেই। এ বড় ভয়ঙ্কর অনুভুতি!

হাসান মাহমুদ অসহায়ের মত বিছানায় ছটফট করছেন। এক একটি সেকেন্ড কে মনে হচ্ছে যেন এক একটি বছর! একটু পর পর দেয়ালের বড় ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছেন। সময় যেন কাটতেই চায় না। মাঝে মাঝে তার সন্দেহ হচ্ছে ঘড়িটা কি বন্ধ হয়ে গেছে!

অস্থির হয়ে বিছানায় উঠে বসলেন। দেয়াল ঘড়িটা সময় বলছে রাত দুটো বাজে। হাসান বিছানা থেকে নামলেন। আলমারি খুললেন। একটা ফাইল বের করলেন। সেই ফাইলের ভেতর থেকে বের করলেন একটা মলিন হয়ে যাওয়া চিঠি!

বিছানার সাথে লাগোয়া টেবিল ল্যাম্প টা জালালেন। পরম যত্নে চিঠিটার ভাজ খুললেন। তারপর হঠাৎ শিশুদের মত ডুকরে কাঁদতে লাগলেন। এখন এই মানুষটাকে দেখে কেউ ভাবতেও পারবেনা যে তিনি প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ডিল করেন। তার একটা সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে কত কিছু!

চিঠিটার প্রতিটা লাইন তার মুখস্থ। তবুও পড়েন, প্রতিদিন পড়েন। যেন এর চেয়ে শান্তির কাজ পৃথিবীতে আর একটিও নেই।

প্রিয় হাসান,

আমার অনেক ভালোবাসা জানবে। তোমার হাতে যখন এই চিঠি পৌঁছাবে তখন হয়ত আমি তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে। কেন চলে গেলাম জানতে চাও? জানো হাসান? যখন বাবা তোমার দিকে চেকটা বাড়িয়ে ধরল- আমি অবাক হয়ে চেকটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমি মনে প্রানে চাইছিলাম তুমি যেন চেকটা গ্রহন না কর। কিন্তু তুমি চেকটা নিলে! আমি যেই হাসানকে ভালবাসতাম, ঐ মুহুর্তে সেই হাসানের মৃত্যু হলো! যেই স্বাধীনচেতা ছেলেটি কখনও মাথা নত করতে শেখেনি, কখনও আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও কাজ করেনি, সেই ব্যক্তিত্বপূর্ন মানুষটার কাছে এই আচরণ আমি আশা করিনি। আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি হাসান। আমি জানি তুমি আমাকে নিজের চাইতেও বেশি ভালবাস। তাই আমার সুখের কথা ভেবেই তুমি বাবার কাছ থেকে চেকটা নিয়েছ। তুমি বড় কিছু করতে পারলে আমাকে সুখে রাখতে পারবে, এই ভেবে নিজের  ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দিয়েছ। কিন্তু বাইরের সুখটাই কি সব কিছু? মনের সুখ কি কিছুই নয়? বিশ্বাস কর হাসান। আমি সুখি হতাম না। আমি চেয়েছিলাম তুনি বড় হও। কিন্তু আমার বাবার সাহায্য নিয়ে বড় হও- এটা চাইনি। সারা জীবন মনের মধ্যে অদম্য কষ্ট নিয়ে তোমার সাথে সুখি হওয়ার অভিনয় করে যেতে হত! আমি তোমাকে ঠকাতে চাইনি হাসান। আমি স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি তুমি যেন অনেক বড় হও। নামি-দামি একজন মানুষে পরিনত হও। কিন্তু আমি তোমার কাছ থেকে দূরে সরে গেলাম। যদি আমার ভাল চাও তাহলে কোনোদিন আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করোনা। আমি তোমাকে ভুলে যেতে চাই হাসান! জানি পারবোনা- কিন্তু আমি চেষ্টা করে যাবো। এই জীবনে হয়ত আর কাউকে ভালবাসতে পারবোনা। কারন আমার সকল ভালোবাসা আমি তোমার কাছে রেখে গেলাম । ভাল থেকো।

ইতি

তোমার একান্ত ভালবাসার মানুষ

মিলি

মন্তব্য করুন

About the author

নাজিম উদ দৌলা

নাজিম উদ দৌলা একজন তরুণ ও উদীয়মান থ্রিলার লেখক। পেশায় ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট হলেও অবসর কাটে লেখালেখি করেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লিখছেন অনেক দিন যাবত। এ পর্যন্ত ৫টি থ্রিলার উপন্যাস লিখেছেন তিনি যা পাঠক মহলে ব্যপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি থ্রিলারধর্মী ছোটগল্প লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। লেখকের ফেসবুক প্রোফাইলঃ https://www.facebook.com/zimbd

পোষ্ট ক্যাটাগরি

ফেসবুকে আমি