ছোট গল্প

শিকার

এত রাতে মিথিলার ফোন! মোবাইলটা হাতে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে গেল আমার। মিথিলা আমাকে বলেছিল- আগামিকাল তার একটা ইম্পরট্যান্ট এক্সাম আছে। তাই আজ রাতে ফোনে কথা হবে না! তাহলে হঠাৎ ফোন দিয়েছে কেন?

আমি ফোন ধরলাম, ওপাশ থেকে মিথিলার ফোঁপানোর শব্দ পেলাম। আমি তো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম! জিজ্ঞেস করলাম, “কি… কি হয়েছে মিথিলা? এমন করছ কেন?”

“নাজিম… নাজিম… আমাকে বাঁচাও নাজিম…” বলেই মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ল।

আমার মনে ভয় ধরে গেল। “কি হয়েছে মিথিলা কাঁদছ কেন?”

“নাজিম… একদল লোক… একদল লোক আমাকে মারতে চায়…” বলেই আবার কাঁদতে থাকল মিথিলা।

আমি তো যার পর নাই অবাক! “তু… তুমি কি বলছ? কিছুই তো বুঝতে পারছি না আমি মিথিলা! কি হয়েছে? কই তুমি? কারা মারতে চায় তোমাকে?”

“আমি জানি না নাজিম! আমি জানি না! একদল লোক আমাদের বাসায় ঢুকে পড়েছে। ওদের হাতে ছুরি, রাম দা, পিস্তল! আমাকে এসে বাঁচাও নাজিম!”

“হ্যা… হ্যা… আমি আসতেছি মিথিলা। কিন্তু তোমার বাসার লোকজন সব গেল কোথায়?”

মিথিলা ফোঁপানোর ফাঁকে বলল, “সবাই… একটা বিয়ের দাওয়াতে গেছে। আমি পরিক্ষার পরার জন্য থেকে গেছি… প্লিজ! তুমি আমাকে বাঁচাও!”

আমি মিথিলাকে সাহস দেয়ার চেষ্টা করলাম, এই মুহূর্তে যা তার সবচেয়ে বেশি দরকার। “আমি এক্ষুনি আসছি মিথিলা! একটু সাহস রাখ মনে। আমি থাকতে তোমার কিচ্ছু হবে না! তুমি এখন কোথায় আছ বল?

“আমি বাথরুমে লুকিয়ে আছি। ওরা সব যায়গা তন্ন তন্ন করে খুঁজছে। খুঁজে পেলে আমাকে মেরে ফেলবে…”

“কিচ্ছু হবে না! তুমি লুকিয়ে থাক। আমি এক্ষুনি চলে আসছি… ”

ফোন কেটে গেল। মনে হয় মিথিলার ব্যালেন্স শেষ! উত্তেজনায় আমার বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা মনে হচ্ছে পাগলা ঘোড়ারর মত টগবগ করে লাফাচ্ছে! মিথিলার জন্য কিছু একটা করতে হবে আমার! কিন্তু কি করব?

আমি ব্যস্ত হাতে একটা দরকারি নাম্বারে ডায়াল করলাম। রিং হচ্ছে, কেউ ধরছে না! হায়রে! দরকারের সময় কাউকে পাওয়া যায় না! এখন কি উপায় হবে?

আর একবার ডায়াল করলাম আমি। দুইবার রিং হতে ফোনটা রিসিভড হল। ওপাশ থেকে কেউ একজন বলল, “হ্যালো”।

আমি সাথে সাথে গর্জে উঠলাম! “হারামযাদার দল! এই বুদ্ধি নিয়ে চলিস তোরা? মেয়েটা বাথরুমে গিয়ে লুকিয়েছে। যা এক্ষুনি গিয়ে মেয়েটাকে মেরে ফেল!”

ওপাশ থেকে বলল, “আচ্ছা উস্তাদ”।

“আর শোন… লাশটা গাড়িতে করে নিয়ে নদীতে ফেলে আসবি। সাবধান! কাক-পক্ষীও যেন টের না পায়!”

“আচ্ছা ওস্তাদ!”

আমি ফোন কেটে দিলাম। একদল উজবুককে ভাড়া করেছি! একটা মেয়ে বাথরুমে লুকিয়ে আছে! আর তারা খুঁজে পাচ্ছে না!

বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। আলসেমি লাগছে খুব। মোবাইলে অন্য একটা নাম্বার তুলে ডায়াল করলাম। কয়েকবার রিং হতে ফোনটা ধরল। মিস্টি একটা নারী কণ্ঠ বলল, “হ্যালো? কি ব্যাপার? এত রাতে?”

“হুম। তুমি ঘুমাওনি?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“জি না। কেন ফোন দিয়েছেন?”

“দেখ নিপুণ! তুমি আমার একটা প্রশ্নের জবাব কিন্তু এখনও দাওনি। জবাবটা এখন দেবে কি না জানার জন্য ফোন করেছি”।

নিপুণ লাজুক কণ্ঠে একটু হেসে বলল, “কি প্রশ্ন?”

“আমাকে ভালবাসবে কি না?”

মেয়েটি জবাব দিল না। খিল খিল করে হাসতে থাকল।

মৃদু হাসলাম আমি। বুঝলাম- নতুন শিকার পটে গেছে! দুই তিন মাস অনায়াসে চালানো যাবে একে দিয়ে। তারপর যেদিন আর ভাল লাগবে না সেদিনই…

ও হ্যা! মেয়েরা বাথরুমে লুকাতে পছন্দ করে- ব্যাপারটা মাথায় রাখা জরুরী!

মন্তব্য করুন

About the author

নাজিম উদ দৌলা

নাজিম উদ দৌলা একজন তরুণ ও উদীয়মান থ্রিলার লেখক। পেশায় ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট হলেও অবসর কাটে লেখালেখি করেন। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লিখছেন অনেক দিন যাবত। এ পর্যন্ত ৫টি থ্রিলার উপন্যাস লিখেছেন তিনি যা পাঠক মহলে ব্যপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি থ্রিলারধর্মী ছোটগল্প লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। লেখকের ফেসবুক প্রোফাইলঃ https://www.facebook.com/zimbd

পোষ্ট ক্যাটাগরি

ফেসবুকে আমি